Feeds:
Posts
Comments

সপ্তাহ খানেক আগে, গত শনিবার, ছিল কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা। বেশিরভাগ বাঙালি হিন্দু পরিবারের মত আমার বাড়িতেও এই পুজো হয়। পুজোর অঙ্গ হিসাবে মন্ত্র এবং পাঁচালীর সঙ্গে থাকে ব্রতকথা পড়ার নিয়ম। ব্রতকথা হল সাধারনতঃ একটি অলৌকিক গল্প, যেখানে সাধারন মানুষের নানা সমস্যা এবং তার সমাধানের মধ্যে দিয়ে আরাধ্য দেব-দেবীর মাহাত্ম্য প্রচার হয়। এইসব ব্রতকথা একসঙ্গে করে “মেয়েদের ব্রতকথা” বা “বারোমাসের ব্রতকথা” – এই ধরনের নাম দিয়ে সঙ্কলন আকারে প্রকাশ করা হয়।
আমাদের বাড়ীর পুজোয় দুটি ব্রতকথা বলা হয়। তার মধ্যে একটি পড়া হয়ে এই ধরনের একটি বই থেকে; অন্যটি আমার ঠাকুমার স্মৃতি-নির্ভর। দুটি গল্পই নানারকমের বাঁক ঘুরে শেষ অবধি মা লক্ষ্মীর ক্ষমতা ও মাহাত্ম্য বর্ণনা করে। মুশকিল হল, গল্পের ফাঁক-ফোকর এত বেশি যে, আমরা যারা পড়ি এবং শুনি, তারা প্রতিবারই পাঠ চলাকালীন নানাবিধ যুক্তি এবং প্রশ্ন খাড়া করি- শেষ অবধি ব্যাপারটা হাসাহাসি করে শেষ হয়। এতে মা লক্ষ্মী রেগে যান, না কি অবোধ সন্তান বলে আমাদের মাপ করে দেন ঠিক জানিনা, তবে প্রতি বছরই একই ব্যাপার ঘটে আমাদের বাড়ীর পুজোয়।
যে গল্পটি নিয়ে এত কথা, সেই গল্পটি বলি এবার। অন্যান্য বারের মত এইবারো আমিই ব্রতকথাটি পাঠ করে এসেছি সদ্য সদ্য, তাই গল্পটা একদম ঠিকঠাক বলছি, গল্পের বাঁক এবং গতি মেনেঃ

এক দেশের রাজার নিয়ম ছিল যে তাঁর রাজ্যে কোন জিনিষ বিক্রি না হলে তিনি সেটা কিনে নেবেন। একদিন এক কামার এক লোহার অলক্ষ্মী মূর্তি বানিয়ে হাটে বেচতে নিয়ে এল। সেট কেউ কিনলো না। তখন সে রাজার বাড়ির সামনে এসে হাঁকাহাঁকি করায় তিনি সেট উচিত মূল্যে কিনে নিলেন।
সেদিন রাত্রে রাজপ্রাসাদের ভিতর মহিলার কান্নার আওয়াজ শুনে রাজা এসে দেখলেন এক পরমাসুন্দরী কন্যা কাঁদছেন। তাঁকে রাজা জিজ্ঞেস করলেন- আপনি কে মা,এখানে বসে কাঁদছেন কেন? তাতে সেই মহিলা বললেন- আমি তোমার রাজ্যলক্ষ্মী, তুমি বাড়িতে অলক্ষ্মী কিনে এনেছ, তাই চলে যাচ্ছি। বলে তিনি চলে গেলেন।
এইভাবে পরের দুই রাত চলে গেলেন ভাগ্যলক্ষ্মী আর যশোলক্ষ্মী। তার পরের রাতে এক পুরুষ আর আরেকজন নারীকে বেরিয়ে যেতে দেখে রাজা তাঁদের আটকালেন। সেই পুরুষ বললেন তিনি ধর্ম, আর নারী কূললক্ষ্মী। রাজা ধর্মকে বললেন- আপনি আমাকে ছাড়তে পারবেন না। সেই কথা শুনে ধর্ম থেকে গেলেন। কূললক্ষ্মী চলে গেলেন। তবে তিনি চলে যাওয়ার আগে রাজাকে বর দিয়ে গেলেন যে এখন থেকে রাজা সব পশু-পাখির কথা বুঝতে পারবেন।
ক্রমে রাজ্যে এবং রাজার জীবনে অশান্তি নেমে এল। একদিন রাজা অরুচি হওয়ার জন্য রানীকে বারন করলেন রান্নায় ঘি দিতে। তাঁর খাবার সময় পাতের চারধারে প্রচুর পিঁপড়ে জমা হত। সেদিন পিঁপড়েরা খাবারের কণা মুখে দিয়ে বলাবলি করতে লাগল- রাজার কি দুর্দিন, খাবার ঘি ও জোটেনা। তাই শুনে রাজা হা হা করে হেসে উঠলেন। সেই হাসি শুনে রানী জানতে চাইলেন কেন তিনি হাসছেন। রাজা বলতে চাইলেন না, রানীও ছাড়লেন না। রাজা বললেন- একথা বললে আমার প্রাণ যাবে, তাও তুমি শুনতে চাও? রানী বললেন- হ্যাঁ, শুনতে চাই। অগত্যা রাজা রানীকে বললেন- নদীর ধারে চল, সেখানে গিয়ে বলব।
নদীর ধারে গিয়ে রাজা দেখলেন নদীর মাঝখান দিয়ে একটা মৃতদেহ ভেসে যাচ্ছে। তাই দেখে নদীর পাড়ে বসা এক শেয়ালকে, শেয়ালনী বলছে- যা, গিয়ে মড়াটা নিয়ে আয়, দুজনে মিলে খাই। তাই শুনে শেয়াল বলল- আমি তো আর রাজার মত বোকা নই যে রানীর কথায় প্রাণ দেব। এই কথা শুনে রাজা রানীকে সেইখানে ছেড়ে দিয়ে এক দৌড়ে রাজ্যে ফিরে চলে গেলেন।
রানী নদীর পারে মলিন বস্ত্রে ঘুরে ঘুরে বেড়ালেন। তারপর একদিন দেখতে পেলেন, আশ্বিন মাসের কোজাগরী পূর্নিমার রাত্রে কয়েকজন মহিলা খই, মুড়কি, নারকোল আর তালের ফোঁপল এবং অন্যান্য আনুসঙ্গিক দিয়ে পুজো করছে। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন এটা কি পুজো। তারা জানালে এ হচ্ছে কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা। তখন রানী তাদের সঙ্গে বসে পুজো করলেন এবং সারা রাত গান-গল্প করে জেগে কাটালেন।
পরদিন ভোরবেলা রাজার প্রাসাদে বিষম শব্দ করে অলক্ষ্মীর মূর্তি ভেঙ্গে চৌচির হয়ে গেল। ধর্ম এসে রাজাকে বললেন- অলক্ষ্মী দূর হয়েছে, আপনি শিগগির রানীকে ফিরিয়ে আনুন। রাজা তখন পালকি বেহারা পাঠিয়ে রানীকে ফিরিয়ে নিয়ে এলেন। রাজ্যে সুখ-সমৃদ্ধি ভরে উঠল।

গল্প শেষ। কিন্তু সত্যি শেষ হল? এই গল্পটি আমাদের সবার মনে রেখে যায় বেশ কয়েকটি প্রশ্ন। যেমনঃ
১। ধর্মের নিজের কি কোন মতামত নেই? প্রথমে তিনি কূললক্ষ্মীর সাথে রাজাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছিলেন, তার পর রাজা একবার মিনতি করতেই মত বদল করলেন?
২। কূললক্ষ্মী বর দেওয়ার সময় বলেন নি অন্য কেউ জানলে রাজার মৃত্যু হবে। তাহলে সেই কথা পরে এল কেন?
৩। রানীর কি ভয়ানক জেদ- রাজার মৃত্যু হবে জেনেও তাঁর লুকানো কথা শোনার কি প্রবল আগ্রহ…
৪। যে রাজা কিছুক্ষণ আগে রানীর কথায় বাধ্য হয়ে নদীর ধারে গেলেন লুকানো কথা বলতে, তিনিই শেয়ালের কথা শুনে মূহুর্তে মত বদল করলেন
৫। রাজা তারপর রানীকে ভুলেই গেলেন, আর ততদিন খোঁজ নিলেন না, যতদিনে আবার ধর্ম এসে মনে করিয়ে দিলেন
৬। গল্পের শুরু যে সমস্যা নিয়ে, সেখানে কিন্তু রাজার কোন ভুল নেই। তিনি তো রাজধর্মই পালন করছিলেন। তাহলেও তার জীবনে এত সমস্যা কেন?
৭।রাজ্যলক্ষ্মী, ভাগ্যলক্ষ্মী, যশোলক্ষ্মী, কূললক্ষ্মী- সবাই মিলে একসঙ্গে একা অলক্ষ্মীর বিরুদ্ধে হতে পারলেন না? শেষ অবধি কিনা বেচারি রানীকে বিশেষ ভাবে কোজাগরী করতে হল এই সমস্যার সমাধানের জন্য?
৮।এইটাই যদি সমাধান হবে- তাহলে প্রথমেই তো রাজাকে সমাধান বলে দিলে হত!
এইরকম আরো নানা প্রশ্ন আমাদের মনে  এবং মুখে ঘোরাফেরা করে। আমি এই পোস্টে , যে বই থেকে এই গল্পটি পড়া হয় তার নাম বা প্রকাশক/সম্পাদকের নাম বলছি না। এখানে কারোর সমালোচনা করা আমার উদ্দেশ্য নয়। ব্রতকথাগুলি কোন একজনের লেখা নয়, তাই বইটিতে সম্পাদক এবং সংশোধনকারীর নাম আছে। ব্রতকথাগুলি মূলতঃ মুখে মুখেই ঘুরত, যেমন আমার ঠাকুমার বলা দ্বিতীয় গল্পটি, যেটা কোন বইতে পাওয়া যায় বলে জানি না। যে গল্পতে লক্ষ্মীর ছেলের নাম কুবের আর মেয়ের নাম- ঢুস্‌না -পাবনার ভাষায় যেটা হয়ে যায় ঢুইশন্যা!!- যে গল্প আমাদের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করে মা লক্ষ্মীর নামপছন্দের রকম-সকম নিয়ে!
ওপরের গল্পটি নিয়ে আমি আলোচনা করলাম কারন এই গল্পটি যতবারই পড়ি, ততবারই ওপরের প্রশ্নগুলি মাথায় চলে আসে। এই গল্পের কোন নারীবাদী বা মানবতাবাদী তত্ব বিশ্লেষণ করতে চাই না। কিন্তু কেন যেন মনে হয়, রানীর ওপর অকারণে কত ঝড়-ঝাপ্টা গেল। সমস্যা তৈরি করলেন রাজা, কিন্তু তার সমাধান এল শেষ পর্যন্ত রানীর হাত ধরে। যতক্ষণ না এল, ততক্ষন রানী কিন্তু তাঁর হারানো জায়গা ফিরে পেলেন না।
হয়ত আরেকটু গভীর ভাবে ভাবলে, এইসব গল্পগাথা-ব্রতকথার মধ্যেই লুকিয়ে আছে আমাদের প্রাচীন সমাজব্যাবস্থার, ধ্যান-ধারণার টুকরো টুকরো চিত্র। আর সেইসব চিত্রগুলি হয়ত সবগুলিই প্রাচীন নয়, হয়ত সেইসব ধ্যান-ধারণার কিছু কিছু আজও বর্তমান, খানিকটা পরিশীলিত রূপে – সেই সব ভাবনা-চিন্তা, ধ্যান-ধারণা, যেগুলির সঙ্গে আধুনিক পুরুষ এবং নারী নিজ নিজ ক্ষেত্রে এখনও লড়াই করে চলেছে।
তাই মনে হয়, পুজোর শেষে নাড়ু-মুড়কি খেতে খেতে এবং তালের ফোঁপলের ভাগ নিয়ে ভাই-বোনেদের সাথে ঝগড়া করতে করতে আমরা আলোচনা চালিয়েই যাই…বছরের পর বছর, প্রতি কোজাগরীতে।

এই পোস্টটি কফিহাউসারাড্ডা ব্লগেও প্রকাশিত হয়েছে।

মহালয়ার ভোরবেলা অ্যালার্ম বাজিয়ে চারটের সময় ঘুম থেকে উঠে, ধূপ জ্বালিয়ে, ল্যাপটপ খুলে মহিষাসুরমর্দিনীর সিডি চালিয়ে দিলাম। প্রত্যেক বছরের মতই ভাবলাম, এইবার পুরো অনুষ্ঠান শুরু থেকে শেষ অবধি শুনবো। আমার সিডি টা ভিডিও সিডি। তাতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের গলায় যখন উদাত্ত স্বরে শোনা যায় “যা দেবি সর্ব্বভূতেষূ — ” তখন স্ক্রিনের ওপর পাটের চুল দাড়ি লাগানো বরষীয়ান অভিনেতা মনু মুখার্জীকে দেখা যায় চট দিয়ে তৈরি স্টুডিওর কুঁড়ে ঘরে বসে সেই বজ্রগম্ভীর কন্ঠের লিপ দিচ্ছেন। মাঝে মাঝে নীল আকাশ, কাশ ফুল, দুর্গার মুখ, নৃত্যরতা মহিলা, লালপেড়ে শাড়ী পরা বাঙালিনী — আমার ভালো লাগে না। কিরকম যেন মনে হয় একটা অপার্থিব ঘটনাকে জোর করে টেনে নামিয়ে আনা হচ্ছে। ‘মহিসাষুরমর্দিনী’ দেখার নয়, শোনার, অনুভব করার —অন্ধকার ঘরে বালিশ আঁকড়ে বিছানায় শুয়ে নিজের অজান্তেই রোমাঞ্চিত হওয়ার — এক বিশেষ অভিজ্ঞতা।

তাই আমি কোন দিনই সিডির ছবি অংশটুকু দেখিনা। ইদানীং রেডিওতেও শুনি না। কারণ সত্যি বলতে কি, আকাশবানীর সম্প্রচার এ কি হয় জানিনা,অনেকদিন শুনিনি, কিন্তু এফ এম চ্যানেল গুলি যা করে, সেট ক্ষমার অযোগ্য। আমি বার তিনেক শোনার চেষ্টা করেছি বিভিন্ন চ্যানেলে, সবাই এক! এক মন্দ্রগম্ভীর অনুষ্ঠান চলার মাঝখানে তারা বাধ্য করে তাদের নিজস্ব জিঙ্গল শুনতে, মাঝে মাঝে অন্যান্য বিজ্ঞাপনও থাকে। সে যে কি অসহ্য!! পন্যসংস্কৃতির যুগে ৩৬৫ x ২৪ ঘন্টার মধ্যে মাত্র দেড় ঘন্টাও তারা আমাদের ছাড় দিতে রাজি নয় ! তাই আমিও তাদের এই দেড় ঘন্টার জন্য ত্যাগ করেছি। ভাগ্যিস অনুষ্ঠানটির সিডি পাওয়া যায়। অন্তত নিজের মত করে, চোখ বুজে ডুবে যাওয়া যায় সঙ্গীত-কাব্য-চন্ডীপাঠের এক অনন্য অভিজ্ঞতায়।

এবারো শেষ পর্যন্ত পণরক্ষা হল না। খানিক্ষণ আলো জ্বেলে বসে থেকেই মনে হলো এত আলোতে ঠিক ব্যাপারটা জমছে না। তাই আলো নিভিয়ে ‘নম চন্ডী, নম চন্ডী —” শুনতে শুনতে শুয়ে পড়লাম আবার। আর তখনই হটাত করে মনে পড়ে গেল একটা নাম আর একটা ছবি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে ছায়াছবি নিয়ে অনেক রকমের থিওরি পড়তে হয়েছিল। তার মধ্যে একজন ছিলেন সিগফ্রিড ক্রাকোয়া (Siegfried Kracauer ). তাঁর “Theory of Film:Redemption of Physical Reality” বইয়ের শেষ পরিচ্ছেদে ‘অপরাজিত’ নিয়ে আলোচনা করে তিনি বলেছিলেন, ‘অপরাজিত’ এক সর্বকালীন ছবি। এই ছবিতে দূর শহরে পড়তে যাওয়া ছেলের ফিরে আসার জন্য মায়ের যে অপেক্ষা, আর অপরদিকে সদ্য বড় হওয়া ছেলের কাছে মায়ের টানের থেকে অনেক বেশি আকরষণীয় অজানা, অদেখা নতুনের টান – এই টানাপোড়েন বিশ্বের সব মা আর সন্তানের গল্প। পৃথিবীর সমস্ত প্রান্তেই ঘরে থাকা মা অপেক্ষা করে থাকে ছুটির দিনে তার সন্তানের ঘরে ফেরার দিকে তাকিয়ে, আর সব সন্তানই ফিরে আসে, কিন্তু কিছু সময় পরে আবার ফিরেও যায় নিজের নতুন ঠিকানায়।

লেখকের নাম টা অবশ্যি তক্ষুনি মনে পড়েনি, বরং আধো-ঘুমে আধো জাগরনে বৃটীশ কবি সিগফ্রিড সাসুনের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে , এতদিন পরেও আমার নামটা মনে আছে- কি আশ্চর্য!! ভেবে আত্মতুষ্টিতে ঘূমিয়ে পড়লাম। আমার স্পিকারে তখন মহিষাসুরের সঙ্গে মা দুর্গার ভয়ানক যুদ্ধ চলছে। সেই ঘনঘটাপূর্ণ সঙ্গীত এবং ভাষ্যকে পটভূমিকায় রেখে অপরাজিত, আমার বাড়ী ফেরা, অপরাজিত ছবির সেই শেষ দৃশ্য, পুজো এইসব নানাবিধ ভাবতে ভাবতে তলিয়ে গেলাম নিবিড় ঘুমে।

কেন মনে পড়লো এই নাম এবং এই ছবি? আসলে যখন এই বইটা পড়েছিলাম, তখন থেকেই, মাঝে মাঝেই আমার মনে পড়েছে এই বইটার কথা, আর ‘অপরাজিত’র কথা। অপুর সঙ্গে আমার খুব মিল। শুধু আমার না, আমার ভাই, আমার পিসতুতো ভাই বোনেদের, আমার পাড়ার সাগর, সৈকত, টুপাই- সব্বার খুব মিল। কারণ আমরা সবাই একেকজন অপু। কর্মসূত্রে অথবা পড়াশোনার জন্য বাড়ী থেকে দূ্রে থাকি। বেশিরভাগ কলকাতা, কেউ গুজরাত, কেউ অন্ধ্রপ্রদেশ, কেউ মুম্বই, কেউ বা আরো দূরে, কেউ একটু কাছে। বছরে দুই বা তিনবার বাড়ী আসি। অন্য সময়ে না পারলেও পুজোয় তো আসি-ই। আমাদের বাড়ী পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খন্ডের সীমানায় এক ছোট্ট শিল্পাঞ্চলের কাছে। কলকাতা থেকে আসতে ঘন্টা পাঁচ-ছয় লাগে। কেউ বা আসে মহালয়ার পর পরই। কেউ ষষ্ঠীতে বা সপ্তমীতে, কেউ বা কলকাতার পুজো পরিক্রমা সেরে অষ্টমী বা নবমীতে। কেউ কেউ ফিরতে পারে না।

কলকাতার তুলনায় আমাদের এখানে পুজোরগুলির জাঁকজমক অনেক কম। একটি বা দুটি পুজোর উদ্যোক্তারা চেষ্টা করেন কলকাতার অনুসরনে থিম পুজো করার, বাকিগুলি নিখাদ বারোয়ারি পুজো। মন্ডপসজ্জা, আলো, বা প্রতিমা, সবকিছুই এক নির্দিষ্ট গুণমানের। কিন্তু জাঁকজমক যতই কম থাক, উতসাহ আর উদ্দীপনার কমতি থাকে না একফোঁটাও। ভোর চারটে না বাজতেই সবার ঘুম ভাঙ্গানোর জন্য বাজতে থাকে ‘মহিসাষুরমর্দিনী’ । আর সারাদিন ধরে সানাই, আর মাঝে মাঝে স্বাদবদলের হিন্দি-বাংলা গান। ছোটরা এবং বড়রা বয়স অনুসারে মন্ডপের ভিতরে-বাইরে বসে আড্ডায় মেতে ওঠেন। সন্ধ্যা হতে হতে দল বেঁধে ভিড় জমায় কাছে-দূরের বিভিন্ন বসতির মানুষ।অষ্টমীর অঞ্জলি দিতে বাড়ির গাছ থেকে ফুল পেড়ে নিয়ে যায় সবাই। নবমীর দুপুরে খিচুড়ী ভোগ। একাদশীর সন্ধ্যায় বিজয়া সম্মিলনীতে নানা রকমের নাচ-গান। আমার মত ঘর ফেরা অপুদের আলাদা পাওনা হল এক বছর পরে বন্ধুবান্ধবদের সাথে দেখা হওয়া।

তাই বছরের পর বছর ধরে, পুজোর ঢাকে কাঠি পড়লেই, ব্যাগ-বাক্সের ধুলো ঝেড়ে, তার মধ্যে জামা-কাপড় আর উপহারের টুকিটাকি ভরে, মহানগরের উৎসবের অমোঘ আকর্ষণ ত্যাগ করে বাড়ি চলে আসি। মনে করে ব্যাগে ভরি বাবার পছন্দের মিষ্টির বাক্স, মায়ের জন্য আসল জার্মান হোমিওপ্যাথি ওষুধ, আর গোপালের জন্য লাল-নীল জরিপাড় বসানো নতুন জামা। আসার পথে রেল লাইনের ধারে কয়েকগুছি কাশফুল দেখতে পেলে মন আনচান করে ওঠে। কোথাও বা স্টেশনের ধারে রঙ্গিন মন্ডপের সামনে বেলুন হাতে দাদুর কোলে ছোট্ট শিশু; ট্রেনের কামরার ভেতর ছূটির ডাকে উন্মনা লটবহর শুদ্ধ ভ্রমণপিপাসু বাঙালি। ফেরিওয়ালার হাতে নতুন পূজাবার্ষিকী।

শেষ বিকেলে ট্রেন থেকে যখন নামি, আশ্বিনের গোধুলিতে গাছপালায় ছাওয়া আমাদের ছোট স্টেশনটাকে তখন বড় মায়াময় লাগে। আমি ভারি স্যুটকেস টেন ওভারব্রীজ পেরোতে পেরোতে দেখি, ট্রেনটা কেমন বাঁক নিয়ে চলে যাচ্ছে আরো দূরে…আরো কত অপু পৌঁছে দিতে — হয়ত তাদের নিশ্চিন্দিপুরে — বা হয়তো কোন অজানার সন্ধানে — আর অপুর সাথে, এই ছুটির কটা দিনে, চুপিচুপি সঙ্গ নিয়েছে -দুর্গা ।

——————————————————–
এই পোস্টটি একই সংগে ‘কফিহাউসেরআড্ডা‘তেও প্রকাশিত হয়েছে।

e-card

Create Your OwnVisit Ichchhamoti

Washington Bangla Radio Has put up a post about the new issue of Ichchhamoti - Borsha Songkhya 2009 [Monsoon Issue 2009]. I am happy and grateful to them.

Thank you WBRi !!

http://www.washingtonbanglaradio.com/content/bengali-online-childrens-magazine-ichchhamoti-monsoon-2009-issue-published

গত কয়েকদিন ধরে যখনি বৃষ্টি পড়ছে, মাঝে মাঝেই ভুলে যাওয়া স্বপ্নের মত হারিয়ে যাওয়া ছোটবেলার একটা ঘটনা বার বার মনে পড়ে যাচ্ছে…প্রতি বর্ষাতেই পড়ে…আমার আর ভাইয়ের ঝুলন সাজানোর কথা। এবারো যখন মনে পড়ল, তখন ভাবলাম একেবারে ভুলে যাওয়ার আগে লিখে রাখি আমার সেই সব স্মৃতি। এইসব ভাবতে ভাবতেই, গতকাল ক্যালেন্ডারের পাতায় চোখ বোলাতে গিয়ে দেখেছিলাম আজ ঝুলনযাত্রা। ঝুলন পূর্ণিমার দিনে হয় বলে একটা ভুল ধারনা ছিল, দেখলাম আজ কিন্তু পূর্ণিমা নয়…ভুল ধারনা তো হওয়ার কথা নয়…স্পষ্ট মনে আছে ‘রাজকাহিনী’তে পড়া বাপ্পাদিত্যের সঙ্গে সেই রাজকন্যার ঝুলন উৎসবের কথা…সেট তো পূর্ণিমা রাত ই ছিল…টাইপ করা থামিয়ে উঠে গিয়ে ধুলো ঝেড়ে বার করলাম আমার সেই প্রিয় বই…আর হ্যাঁ, ঠিকই তো…অবনীন্দ্রনাথ তো সত্যি লিখেছেন পূর্ণিমার রাতে শোলাঙ্কি রাজকুমারির সাথে বাপ্পাদিত্যের ঝুলন খেলার গল্প ।…তাহলে ক্যালেন্ডার আজকের দিনটা পূর্ণিমা দেখাচ্ছে না কেন? …অতএব ভরসা গুগল!!

দেখলাম অনলাইন পঞ্জিকা বলছে ৩১শে জুলাই থেকে ৫ই আগস্ট হচ্ছে ঝুলনযাত্রা! এতদিন? কি আশ্চর্য! তারমানে তো একটা পূর্নিমা এসেই যাচ্ছে এর মধ্যে…ওহো…৫ তারিখ তো দেখছি আবার রাখী পূর্ণিমা…।তাহলে কি সেইদিন ই ঝুলনপূর্ণিমাও?… দুই একটি ওয়েবপেজ সার্ফ করে বুঝলাম ৫ তারিখ হচ্ছে শ্রাবণ পূর্ণিমা, সেইদিন ই রাখী, আবার সেইদিন ই ঝুলনপূর্নিমাও বটে। আসলে একটু বড় হয়ে যাওয়ার পর থেকেই, রাখীর সঙ্গে সম্পর্ক থেকে গেছিল, কিন্তু ঝুলন পালন করার অভ্যাসটা যেন কি করে হারিয়ে গেছিল…হয়ত মা বলেছিলেন…বড় হয়ে গেছ, আর ঝুলন করতে হবে না…পড়াশোনার ক্ষতি হবে…তাই বড় হতে হতে আর ছোটবেলাকে পেছনে রেখে নিরন্তর এগিয়ে চলার মাঝে ঝুলন যে কবে হয় সেটাই ভুলে গেছিলাম কতদিনের জন্য…শুধু এটুকু মনে ছিল যে ঝুলনের দিন খুব বৃষ্টি হয়…

কিন্তু তার আগে…সেই সাত-আট-দশ বছর বয়সে…তখন কিন্তু রাধা-কৃষ্ণের লীলা-মাহাত্ম্য নিয়ে মোটেও চিন্তিত থাকতাম না। ঝুলন মানে হল আমাদের মফস্বলী কোয়ার্টারের সামনের একচিলতে বাঁধানো জায়গাটুকুতে ঘাস, মাটি, পাথর, ফুল, পাতা আর যত রাজ্যের খেলনা দিয়ে সাজিয়ে ফেলা…কখনো শহর, কখনও গ্রাম, আমাদের একান্ত নিজস্ব এক রূপকথার দেশ।তার মাঝখানে বসবেন কৃষ্ণঠাকুর, আর সন্ধ্যাবেলা মা দেবেন নকুলদানার হরির লুঠ। আমার সব বন্ধুরাই তাদের সাধ্যমত সাজাতো তাদের ঝুলনের আসর। আমরা আবার একে অপরের বাড়ি যেতাম ঝুলন সাজানো দেখতে।

আগের দিন থেকে শুরু হত আসর সাজানোর, আমাদের ভাষায় ‘ঝুলন সাজানোর’ সরঞ্জাম যোগাড় করার পালা। কোথায় নতুন বাড়ি তৈরি হচ্ছে, সেখান থেকে বালি…রাস্তার ধারে জমা করা কালো কালো খোলামকুচি…কাদামাটি…বর্ষার জল পেয়ে হটাৎ মাটি ফুঁড়ে ওঠা অন্যরকমের ঘাসের ঝাড়, যার ডগাগুলি ধরে একটু নাড়া দিলেই শিকড় শুদ্ধ উঠে আসে…এই ঘাসগুলির চাহিদা ছিল খুব বেশি, কারন দেখতে খুব সুন্দর ছিল। বন্ধুদের মধ্যে রীতিমত প্রতি্যোগিতা চলত কে কটা ঘাস-গাছ খুঁজে পেল… ঝুলনের দিন স্কুল থেকে ফিরতে যেন আর তর সইত না। দুপুরবেলা খাওয়া কোন রকমে শেষ করেই শুরু হয়ে যেত প্রস্তুতি। এই বিষয়ে আমাদের প্রধান উৎসাহদাতা আর উপদেষ্টা ছিলেন আমার মা। দেওয়ালের গায়ে বালি-কাদা চেপে চেপে তৈরি হল পাহাড়, তার গায়ে মাঝে মাঝে স্টোন চিপস…পাহাড়ের গায়ে পাথর…বালি দিয়ে রাস্তা…নীল পলিথিনের বাটির মধ্যে জল ভরে পুকুর, চারিপাশে ঘাস-মাটি দিয়ে বাটিকে ঢেকে দেওয়া হল…একদিকে প্রচুর গাছের ডাল দিয়ে জঙ্গল…তারপর সেই রাস্তায় নামলো প্লাস্টিকের গরুর গাড়ি, পাহাড়ে চড়ার চেষ্টা করতে লাগলো লাল রঙের চার-চাকা…পুকুরে ভাসল খেলনার সাদা হাঁস আর জঙ্গল থেকে উঁকি দিল হলুদ কালো প্লাস্টিকের বাঘ…এক কোনে বসল স্কুলের হাতের কাজে তৈরি করা কার্ডবোর্ডের কুঁড়েঘর, তার সামনে মাটির পেটমোটা টিকিধারী পন্ডিত…এইরকম আরো কত কি… মাঝখানে একজায়গায় বসলেন মায়ের গোপালঠাকুর। এইসব সাজানোয় ওস্তাদ ছিল আমাদের দেখাশোনা করত যে – সেই রক্তিদাদা। রক্তিদাদা সেই সময়ে ১৩-১৪ বছরের ছিল। একবার মনে আছে, সব সাজানো হয়ে যাওয়ার পরে রক্তিদাদা বিকেলবেলা গোয়ালার থেকে দুধ নিয়ে ফেরার পথে কোথা থেকে বা তুলে এনেছিল মাটির চাঙড় শুদ্ধ লম্বা লম্বা ঘাস। সেই ঘাস দিয়ে সাজানোর পরে আমাদের সেই ছোট্ট বৃন্দাবনের চেহারাই পালটে গেছিল! সবাই এসে জিজ্ঞের করেছিল এইরকম ঘাস কোথা থেকে পেলাম আমরা। আমার পরিষ্কার মনে আছে, অন্যদের থেকে আলাদা হওয়ার গর্বে আমার ছোট্ট বুকটা খুশিতে ভরে গেছিল।

সন্ধ্যে হওয়ার আগে বাবা একটা তার টেনে সেই ঝুলনের আসরের ওপর আলো লাগিয়ে দিতেন। আর সন্ধ্যা হলে মা দিতেন নকুলদানা-বাতাসার হরির লুঠ। আমি, ভাই, রক্তিদাদা আর যদি আর কোন বন্ধু থাকত , সবাই মিলে হই হই করে কাড়াকাড়ি করে কুড়োতাম সেই মুঠিভরা আনন্দ।

তারপর বন্ধুদের বাড়ি যেতাম তারা কেমন সাজিয়েছে দেখতে…বেশিরভাগ সময়ই নিজেদেরটাকেই মনে মনে সব থেকে ভালোর খেতাবটা দিয়ে দিতাম। একবার মনে আছে, আমার বন্ধু মাম এর বাড়ি গিয়ে দেখলাম, নানা রকম জিনিষ দিয়ে সাজানো ঝুলনের মধ্যে একদিকে কতগুলি জলপাই সবুজ রঙের ছোট ছোট প্লাস্টিকের যুদ্ধরত সৈন্য। বল্লাম – এগুলো কেন দিয়েছিস? মামা বললো- ওদিকে যুদ্ধ হচ্ছে। অন্যদিকে তাকিয়ে দেখি অতি পরিচিত ভঙ্গীতে, পিছনে হাত দিয়ে, সামনের দিকে ইষৎ ঝুঁকে, গম্ভীর মুখে সৈন্যদের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন কালো প্লাস্টার অফ প্যারিসের রবি ঠাকুর…মাপের অনুপাতে তিনি সৈন্যদের থেকে বেশ বড়। বললাম – রবীন্দ্রনাথ কেন? মাম বললো- উনি ভাবছেন।

সেদিন মামের জন্য একটু দুঃখ হয়েছিল…ওর আমার মত নানারকম খেলনা নেই বলে শেষ অবধি কিনা ছোট্ট ছোট্ট সৈন্য আর মাপে বড় রবীন্দ্রনাথের মূর্তি!- আমি কি জানিনা ওটা মোটেও ওর খেলনা নয়, ওটা ওদের বসার ঘরে বইয়ের তাকে রাখা থাকে…আর ওই সৈন্যগুলিও তো ওদের সাঁজোয়া গাড়ি সমেত শোকেসে রাখা থাকে… আশ্চর্যের বিষয়, সেই একটা দৃশ্য কিন্তু আমার মনে এখনও পরিষ্কার থেকে গেছে…এবং অদ্ভূত ভাবে মাঝে মাঝেই মনে পড়ে… আজ আমি জানি, সেদিন মামের ওই খেলনা সাজানোর ভাবনার পেছনে ছিল ওর বাড়ির বড়দের ভাবনা চিন্তা, যেমন আমাদের ও থাকত…সেই ভাবনা আর সেই বিন্যাসের প্রাসঙ্গিকতা আজও কি ভীষণ সত্যি…কতরকমভাবে সত্যি…

এখন আর ছোটরা ঝুলন সাজায় কিনা জানিনা। আমার চারপাশের ছোটদের তো কাউকেই দেখিনা এই আনন্দ উপভোগ করতে…মনে হয় তারা জানেও না এইরকম একটা উৎসব ছিল বা আছে। আমার সেই ছোটবেলার কোন এক ঝুলনযাত্রার দিন খুব বৃষ্টি পড়েছিল, ধারালো ছাঁটে ভিজে গিয়েছিল ঘাস-মাটি-ফুল-খেলনা…রাতের বেলা সব উঠিয়ে রাখার সময় দেখতে পেলাম পেটমোটা পন্ডিতমশাই জলে ভিজে গলে গেছে তলার দিকে…কাঁচা মাটির পুতুলের গা থেকে হাতে উঠে এসে লেগেছিল নীল-সবুজ রঙ। কলের জলের ধারার নীচে ধুয়ে যাওয়া সেই রঙের মতই হারিয়ে গেছে সেই ভালোলাগার উৎসব…

এই পোস্ট একই সঙ্গে “আমারব্লগ” এও প্রকাশিত হয়েছে।

Morning Surprise

“Hello, am I speaking to Mahasweta?”

“Yes”

“Well Mahasweta, I am a friend of yours….”

“err..ok…”

“So how are you?”

“May I know your name please?”

“My name? Do you really need to know it?”

“Yes, it will be nice if you say…”

“What if I do not tell you my name?”

“Well, then I will cut off the connection in a while…”

“Oh! Is that so? Will you talk with me if I tell my name?”

“Yes, surely, if it is needed..”

“OK, I will tell you my name and then you decide whether you will talk with me, right?”

“OK”

“OK Mahasweta, I am RJ Rayan from  ‘Salaam Kolkata’ from 91.3 Friends FM…”

“OH…oh…oh…I am so sorry ….I did not realise…though your voice seemed known…”

“So, now will you talk to me?”

“Sure …and I am sorry again…”

“Well, no need to say sorry, I knew I was going to surprise you…are you surprised?”

“Well, yes, to quite some extent!!”

“And you also scolded me…”

“Oh..once again I am sorry…I was actually not sure who the call came from…”

“You know the whole city of Kolkata is hearing you right at this moment”

“Yes…I know that…”

“Well , I did not mind at all…so what are you doing now?”

“Just going about doing household chores”

“Yesterday you sent a message to the sms content, do you remember?”

“Yes, the one about Nagesh Kookunur?”

“Yes, and what was the answer? Which one was his first film?”

“Hyderabad Blues”

“Have you seen it?”

“Yes, long back, so I really do not remember much of it”

“Well, I am not going to ask you any more questions on that film….Mahasweta, you have been chosen the lucky winner of yesterday’s contest!! How are you feeling?”

“Wonderful!! I sent a sms for the first time in life, and got a  award for the first time!”

“Is that so? This was your first sms ever? …well Mahasweta, you are receiving a gift voucher from Shreeleathers”

“Oh, thank you so much…”

“So how was the surprise?”

“Great!! Today was a lovely morning after many many days…”

“So you got a prize and you scolded me also…”

“Ha ha ha…I am sorry once again…”

“Well, Mahasweta, no need to say sorry…just come with your id and collect your gift from our office any working day…..and listen to the radio now”

Well, that was yesterday morning :) !!

Welcome to Sajjanpur

Today I got the chance to watch Welcome to Sajjanpur. Today’s Sunday, I had no engagement, wanted to have some good time, and by chance  browsed through the newspaper to know that the film was to be aired on Zee cinema ar 8 p.m.

I am really thankful that though the film had been released last year, I did not read any review of the film till date. I only had a vague idea that Welcome to Sajjanpur is a low-budget [?] film which was supposed to be a well-made one, [some critic had dedicated a couple of lines in praise of the film in some different context] and had Amrita Rao in the cast. Only a few days back, while watching the finals of Zee Bangla’s children’s music reality show Li’l Champs, I heard the song “meetha marz de de” rendered by a kid. I loved the tune, came to know it was by Shantanu Moitra, and searched the net to know it was from Welcome to Sajjanpur. That was the first time that I wished to watch the film, preferably by getting hold of a cd or dvd, because somehow I have observed that Shantanu Moitra generally works for films that are not completely run-off-the-mill.  But there were more surprises waiting for me.

As the title screen unfolded, and the names of the cast and crew started appearing, I was surprised to find names like Ila Arun, Divya Dutta, Rajeshwari Sachdev and Ravi Kishen among others. To my utter awe, the director was none other than Shyam Benegal and the producers are UTV motion pictures!!  [ I blatantly admit here I am highly partial about Ronnie Screwallah from 'The Mathemagic Show' days :) - for no particular reason].

Anyway, back to WTS.  Sajjanpur is a well-settled village in Bihar [or was it Uttar Pradesh ...it was Bihar only I think]. Mahadev [Sreyash Talpade] is a letter writer in the village. He is well-known for his articulate and effective compositions. Numerous people come to him to get their letters written. The young wife whose husband has not come home for four years, the mother who has a mangalik daughter, the compounder who loves a widow – various commonplace characters who have common problems of life.  These characters and the incidents revolving around them create a rich, enjoyable narrative. It was really a treat to watch the film, which offers a feel good effect and makes one realize that life is a mixed bag of love, hate, joy and sorrow.

আরো ছড়া

বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর

নদে এল বান

শিবঠাকুরের বিয়ে হল

তিন কন্যা দান

এক কন্যে রাঁধেন বাড়েন

এক কন্যে খান

এক কন্যে গোঁসা করে

বাপের বাড়ি যান

বাপের বাড়ি তেল সিঁদুর

মালীদের ফুল

এমন খোঁপা বেঁধে দেব

হাজার টাকা মুল

borshar-kotha-header

The Borsha Songkhya 2009 [Monsoon issue] of Ichchhamoti was published last saturday 18th July, 2009.

ফুলকো লুচি ফুলকো লুচি
পেটটা ফুলে ঢাক
ফুলকো লুচি ফুলকো লুচি
পেটের ভিতর ফাঁক
ফুলকো লুচি, একটু সুজি
একটু আলুর দম
কেল্লা ফতে শেষ পাতেতে
পাই যদি চমচম
চমচম ভাই চমচম তোর
দমদমে কি দেশ
ইচ্ছে যে যায় এক কামড়ে
করব তো্রে শেষ

সিঙ্গারা রে সিঙ্গারা
তোর যে দেখি সিং খাড়া
গা টা বেজায় খসখসে
হাঁটু মুড়ে রোজ বসে
ফাটিয়ে দিলে তোর ভুঁড়ী
নোলায় লাগায় সুড়সুড়ি

———————-

দুগগা ঠাকুর ভাল

তাঁর রূপে ভুবন আলো

লক্ষী সরস্বতী

তারা সত্যি রূপবতী

ফুলবাবু কাত্তিক

যেন জামাইবাবু ঠিক

গনেশদাদার ভূঁড়ী

হয় দিতে সুড়সুড়ি

বিদ্ঘুটে ঐ অসুর

যেন আন্নাকালির শ্বশুর!!

————————————-

পঁচিশ গন্ডা পায়রা নিয়ে

আমার যে কি হয়রানি হে

তোমরা সেটা কেমন করে বুঝবে?

কত পড়াই  কত শেখাই

শেষ হল ধান একটি মরাই

[তার পরের পঙ্কতি ভুলে গেছি]

দিদির আমার ভাগ্য ভালো

ছোট্ট বেঁটে পুঁচকে কালো

পুষেছিল একটি মাত্র ময়না

যা শোনে তাই আপনি শেখে

বসে খাঁচার ভেতর থেকে

মারতে ধরতে কিছুই করতে হয়না।

Older Posts »